ইরানকে এ পর্যন্ত কতবার আলটিমেটাম দিলেন ট্রাম্প

ইরানকে এ পর্যন্ত কতবার আলটিমেটাম দিলেন ট্রাম্প














মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে আবারও হুমকি দিয়ে আলটিমেটামের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, আগামীকাল সোমবারের (৬ এপ্রিল) মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে চরম মূল্য দিতে হবে।

ইরানে মার্কিন–ইসরায়েলি হামলা শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত বেশ কয়েকবার আলটিমেটাম দিয়েছেন তিনি। সর্বশেষ আজ আবার আলটিমেটামের কথা স্মরণ করিয়ে দিলেন ট্রাম্প।

প্রথম আলটিমেটাম (২১ মার্চ): ট্রাম্প ঘোষণা করেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইরান যদি নৌপথটি খুলে না দেয়, তবে দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ‘পুরোপুরি গুঁড়িয়ে’ দেওয়া হবে। বিশেষ করে বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে আগে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি দেন তিনি।

দ্বিতীয় আলটিমেটাম (২৩ মার্চ): দুই দিন পর ট্রাম্পের সুর কিছুটা নরম হয়। দুই দেশের মধ্যে ‘খুবই ফলপ্রসূ আলোচনা’ হয়েছে দাবি করে তিনি জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার সিদ্ধান্ত পাঁচ দিনের জন্য পিছিয়ে দেন।

তৃতীয় আলটিমেটাম (২৭ মার্চ): ট্রাম্প জানান, ‘ইরান সরকারের অনুরোধে’ তিনি বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার পরিকল্পনা আরও ১০ দিন পিছিয়ে দিচ্ছেন। এর ফলে নতুন সময়সীমা দাঁড়ায় ৬ এপ্রিল।

৪৮ ঘণ্টার চূড়ান্ত সতর্কতা (৪ এপ্রিল): ৬ এপ্রিলের ডেডলাইন ঘনিয়ে আসায় গতকাল ট্রাম্প ইরানকে চূড়ান্ত সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, তাদের হাতে আর মাত্র ‘৪৮ ঘণ্টা’ সময় আছে। এরপর তিনি দেশটিতে ‘নরক’ বানিয়ে ছাড়বেন।

সর্বশেষ হুমকি আজ (৫ এপ্রিল): আজ আবারও নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একই হুমকির পুনরাবৃত্তি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেছেন, চুক্তি করতে রাজি না হলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।

এই চরম হুমকির মধ্যেই ট্রাম্প দাবি করেছেন, কিছু ইরানি কর্মকর্তা এখন আলোচনার টেবিলে রয়েছেন। আগামীকাল সোমবারের মধ্যে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর ‘ভালো সম্ভাবনা’ রয়েছে বলেও বিশ্বাস করেন তিনি।

অবশ্য তেহরানের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের এই দাবি বারবার নাকচ করে দেওয়া হয়েছে।






চুক্তি না হলে ইরানকে ধ্বংস করে তেল সম্পদ দখলের হুমকি ট্রাম্পের

ইরানের অবকাঠামোতে সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আবারও কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, চুক্তি করতে রাজি না হলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।

ট্রাম্প বলেছেন, ‘তারা (ইরান) যদি দ্রুত কোনো চুক্তিতে না আসে, তবে আমি সবকিছু উড়িয়ে দিয়ে দেশটির তেল সম্পদ দখল করার কথা বিবেচনা করছি।’ তিনি বলেন, ‘শিগগিরই আপনারা দেখবেন পুরো ইরানজুড়ে সেতু আর বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ধসে পড়ছে।’

তবে এই চরম হুমকির মধ্যেই ট্রাম্প দাবি করেছেন, কিছু ইরানি কর্মকর্তা এখন আলোচনার টেবিলে রয়েছেন। আগামীকাল সোমবারের মধ্যে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর ‘ভালো সম্ভাবনা’ রয়েছে বলেও বিশ্বাস করেন তিনি।

অবশ্য তেহরানের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের এই দাবি বারবার নাকচ করে দেওয়া হয়েছে। ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চুক্তির বিষয়ে ট্রাম্প এর আগে যেসব দাবি করেছিলেন, তার কোনো ভিত্তি নেই।

আবার ট্রাম্পের হুমকি, হরমুজ প্রণালি অবিলম্বে খুলে না দিলে ইরানকে ‘নরকের’ স্বাদ নিতে হবে

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক অত্যন্ত আক্রমণাত্মক পোস্টে ইরানকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি অবিলম্বে খুলে না দিলে ইরানকে ‘নরকের’ স্বাদ নিতে হবে বলে আবার হুমকি দিয়েছেন তিনি।

পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, প্রণালিটি উন্মুক্ত করা না হলে ইরানের বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারির ইরানে হামলা শুরুর পর থেকে কার্যত বন্ধ হয়ে আছে এই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক পথ। ট্রাম্প এর আগে ইরানকে এই প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য সোমবার (৬ এপ্রিল) পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন। সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই এই কড়া বার্তা দিলেন তিনি।

গতকালও ট্রাম্প তাঁর ৬ এপ্রিলের আলটিমেটামের কথা উল্লেখ করে ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট দিয়েছিলেন। তিনি লিখেছিলেন, ‘মনে আছে, আমি ইরানকে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে অথবা হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য ১০ দিনের সময় দিয়েছিলাম? সময় শেষ হয়ে আসছে। এখন হাতে আছে মাত্র ৪৮ ঘণ্টা, এরপরই তাদের ওপর চরম ধ্বংসযজ্ঞ নেমে আসবে।’






https://www.profitablecpmratenetwork.com/gvd34zzbf?key=1382d3a3d92912a01fa33c59ce40e83a



ইরান থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় পাইলটকে উদ্ধার করা হয়: ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের পাইলটক গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ কথা জানান।

ইরানে গত শুক্রবার ভূপাতিত করা মার্কিন যুদ্ধবিমানটি বিধ্বস্ত হয়। সেই বিমানে থাকা দুজনের মধ্যে একজনকে সেদিনই উদ্ধার করার কথা জানায় যুক্তরাষ্ট্র। আর আজ ট্রাম্প একজনকে উদ্ধারের কথা জানিয়ে ট্রুথ সোশ্যালে জানিয়েছিলেন, ‘আমরা তাঁকে পেয়েছি!’ ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, উদ্ধার হওয়া কর্নেল পদমর্যাদার ওই কর্মকর্তা ব্যক্তি ‘নিরাপদ ও সুস্থ’ আছেন। বলেছিলেন, ‘তিনি আহত হয়েছেন, কিন্তু ঠিক হয়ে যাবে।’

এখন আবার ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প জানালেন, গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার অভিযানের বর্ণনা দিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানি সামরিক বাহিনী বিপুলসংখ্যক সদস্য নিয়ে হন্যে হয়ে তাঁকে খুঁজছিল এবং প্রায় ধরে ফেলার কাছাকাছি চলে গিয়েছিল।’

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘মানুষ এবং সরঞ্জাম—উভয় দিক থেকেই ব্যাপক ঝুঁকির কারণে এ ধরনের দুঃসাহসিক অভিযান সাধারণত চালানো হয় না। এটি সচরাচর ঘটে না বললেই চলে! প্রথম দফার পর দ্বিতীয় দফায় এই অভিযান চালানো হয়। আমরা দিনের আলোতেই ওই পাইলটকে উদ্ধার করেছি, যা বেশ অস্বাভাবিক ছিল। উদ্ধারকারী দলটিকে প্রায় সাত ঘণ্টা ইরানের আকাশসীমায় অবস্থান করতে হয়েছিল।”

ইসরায়েলে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত, ঘটনাস্থলে যাচ্ছে উদ্ধারকারী দল

ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে রামাত হোভাব এলাকায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ইসরায়েল।

ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে বলেছে, ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে একটি স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার খবর পাওয়া গেছে। সেখানে নিয়মিত ও রিজার্ভ বাহিনীর অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দলগুলো পাঠানো হচ্ছে।

এদিকে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিরশেবা শহরের দক্ষিণে রামাত হোভাব এলাকার একটি কারখানায় ক্ষেপণাস্ত্রটি আঘাত হেনেছে।









আরও একটি মার্কিন বিমান ও দুটি ‘ব্ল্যাক হক’ হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার দাবি ইরানের

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ ইসফাহানে মার্কিন বাহিনীর একটি সি-১৩০ পরিবহন বিমান ও দুটি ‘ব্ল্যাক হক’ হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার দাবি করেছে তেহরান। নিখোঁজ ক্রুকে উদ্ধারের সময় এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানানো হয়েছে।

ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এ ঘটনার একটি ছবি প্রকাশ করেছেন। এছাড়া দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনেও বিমান ও হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার ফুটেজ প্রচার করা হচ্ছে।

ইরানের সামরিক বাহিনীর ‘খাতাম আল-আম্বিয়া’ সদর দপ্তর থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘নিখোঁজ ক্রুকে উদ্ধারে শত্রুপক্ষের বেপরোয়া ও শত্রুতামূলক অভিযানের সময় ইসফাহানের দক্ষিণে তাদের আক্রমণাত্মক বিমান আঘাত হেনে ধ্বংস করা হয়েছে।’

ইরান এ ঘটনাকে তাদের বড় ধরনের বিজয় হিসেবেও তুলে ধরছে। কেননা, যুক্তরাষ্ট্রের দাবি ছিল, ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বড় কোনো সক্ষমতা নেই। কিন্তু একের পর এক মার্কিন বিমান লক্ষ্যবস্তু করার মাধ্যমে ইরান সেই দাবিকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে।

এদিকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের হামলার পর পরিস্থিতি এখন চরম উত্তপ্ত ও নাজুক হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগামী কয়েক ঘণ্টা বা দিনের মধ্যে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলোতে বড় ধরনের হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।






No comments:

Post a Comment