ভয়ংকরের মুভিটি দেখতে পোস্টে ক্লিক করুন

 ভয়ংকরের মুভিটি দেখতে পোস্টে ক্লিক করুন





ছবির উপরে ক্লিক করুন




mm




 অভিশাপ (The Haunting)

প্রথম দৃশ্য: আগমন ও সতর্কতা

শহরের কোলাহল থেকে বহুদূরে, এক গহীন অরণ্যের প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে শতবর্ষী এক জমিদার বাড়ি। বাড়িটার গায়ে বয়সের ছাপ, ইটের ফাঁকে ফাঁকে শেকড় গজিয়েছে। পড়ন্ত বিকেলে সেই বাড়ির সামনে এসে থামলো নীল আর মেহজাবিনের গাড়ি। নীল পেশায় একজন ওয়াইল্ডলাইফ ও ন্যাচার ফটোগ্রাফার, আর মেহজাবিন তার স্ত্রী। বিয়ের প্রথম বিবাহবার্ষিকীটা একটু নির্জনে কাটানোর জন্যই এই পুরনো এস্টেট ভাড়া নেওয়া।

গাড়ি থেকে নামতেই একটা হিমশীতল বাতাস মেহজাবিনের শরীর ছুঁয়ে গেল। তার মনে হলো, বাড়িটা যেন তাদের দিকে তাকিয়ে আছে।

তাদের স্বাগত জানাতে এগিয়ে এলো বাড়ির বয়স্ক কেয়ারটেকার, রহিম চাচা। তার চোখেমুখে একটা অদ্ভুত শঙ্কা। চাবিটা নীলের হাতে দেওয়ার সময় রহিম চাচা নিচু গলায় বলল, "বাবু, এই বাড়ির বয়স অনেক। সব পুরনো জিনিসেরই কিছু নিয়ম থাকে। আপনারা দোতলার পুবের ঘরে থাকবেন। কিন্তু মনে রাখবেন, পশ্চিমের শেষ দিকের ঘরটায় কখনো যাবেন না। আর ওই ঘরের বড় আয়নাটার সামনে তো ভুলেও দাঁড়াবেন না।"

নীল হেসে উড়িয়ে দিলেও, মেহজাবিনের মনের ভেতর খচখচ করতে থাকে।




ছবির উপরে ক্লিক করুন






দ্বিতীয় দৃশ্য: রাতের নিস্তব্ধতা ও প্রথম সংকেত

রাত গভীর হতে থাকে। বাইরে ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক আর মাঝে মাঝে পেঁচার ডাক ছাড়া পুরো এস্টেট নিস্তব্ধ। দোতলার পুবের ঘরে নীল তার ল্যাপটপে বিকেলের তোলা ছবিগুলো এডিট করছিল। মেহজাবিন তখন ফ্রেশ হতে বাথরুমে।








নীল একটা ছবি জুম করতেই তার ভ্রু কুঁচকে গেল। বিকেলে মেহজাবিন যখন বাগানে দাঁড়িয়ে ছিল, তখনকার একটা ছবি। কিন্তু মেহজাবিনের ঠিক পেছনে, গাছের ছায়ায় একটা বিকৃত অবয়ব দাঁড়িয়ে আছে! অবয়বটির মুখ অস্পষ্ট, কিন্তু তার হাত দুটো অস্বাভাবিক লম্বা, আর আঙুলের ডগায় বিশাল বড় বড় কালো নখ। নীল চোখ কচলে আবার তাকাল, ভাবল হয়তো আলোর রিফ্লেকশন।

ঠিক তখনই, হঠাৎ করে পুরো বাড়ির কারেন্ট চলে গেল।





ছবির উপরে ক্লিক করুন






তৃতীয় দৃশ্য: আয়নার ভেতরের বিভীষিকা

অন্ধকারে মেহজাবিন বাথরুম থেকে বেরিয়ে এলো। মোবাইলের ফ্ল্যাশলাইটে সে খুঁজতে লাগল মোমবাতি। খুঁজতে খুঁজতে সে খেয়ালই করেনি কখন সে পুবের ঘর থেকে বেরিয়ে পশ্চিমের সেই নিষিদ্ধ ঘরের সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। ঘরের দরজাটা আধখোলা। ভেতর থেকে একটা অদ্ভুত নীলচে আলো আসছে। কৌতূহল সামলাতে না পেরে মেহজাবিন ভেতরে ঢুকল।

ঘরের মাঝখানে রাখা একটা বিশাল, কারুকাজ করা পুরনো আয়না। মেহজাবিন মন্ত্রমুগ্ধের মতো আয়নার সামনে গিয়ে দাঁড়াল। প্রথমে আয়নায় নিজের প্রতিবিম্ব দেখল সে। কিন্তু কয়েক সেকেন্ড পরই... আয়নার ভেতরের মেহজাবিনের চোখ দুটো হঠাৎ জ্বলজ্বলে লাল হয়ে গেল!

মেহজাবিন শিউরে উঠে পিছিয়ে আসতে চাইল, কিন্তু পারল না। তার পা যেন মেঝেতে আটকে গেছে। আয়নার ভেতরের চেহারাটা বিকৃত হতে শুরু করল। চামড়াগুলো ফেটে ফেটে যাচ্ছে, ঠিক যেন শুকনো মাটি। মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসছে বীভৎস দাঁত। আর সেই হাত! বড় বড় কালো নখওয়ালা দুটো হাত আয়নার ভেতর থেকে বেরিয়ে এসে মেহজাবিনের গলা চেপে ধরল! (পোস্টারের ড্রাকুলারূপী নারীর দৃশ্য)

মেহজাবিন চিৎকার করতে চাইল, কিন্তু গলা দিয়ে গোঙানি ছাড়া কিছু বের হলো না।



https://agreedaboriginal.com/gvd34zzbf?key=1382d3a3d92912a01fa33c59ce40e83a


ছবির উপরে ক্লিক করুন






চতুর্থ দৃশ্য: আত্মার কবলে

নীল মেহজাবিনকে না পেয়ে খুঁজতে খুঁজতে পশ্চিমের ঘরে এসে ঢুকল। মোবাইলের আলো পড়তেই সে দেখল মেহজাবিন ফ্লোরে পড়ে আছে। সে দ্রুত মেহজাবিনের কাছে ছুটে গেল, "মেহজাবিন! কী হয়েছে তোমার?"

মেহজাবিন ধীরে ধীরে মাথা তুলে নীলের দিকে তাকাল। তার চোখ দুটো এখন সম্পূর্ণ সাদা, কোনো মণি নেই। তার মুখে একটা পৈশাচিক হাসি। হঠাৎ এক দানবীয় শক্তিতে সে নীলকে ধাক্কা দিয়ে ঘরের দেয়ালের দিকে ছুঁড়ে মারল।

নীল তীব্র ব্যথায় কঁকিয়ে উঠল। মেহজাবিন উঠে দাঁড়াল, কিন্তু তার হাঁটার ভঙ্গি মানুষের মতো নয়। তার গলা দিয়ে একসাথে কয়েকটি পুরুষ ও নারীর বিকৃত স্বর বেরিয়ে এলো, "একশ বছর... একশ বছর ধরে এই অন্ধকারে বন্দি আমরা! আজ তোদের শরীর দিয়ে আমরা মুক্তি পাব!"

নীল বুঝতে পারল মেহজাবিনের ওপর কোনো অশুভ শক্তি ভর করেছে। সে দৌড়ে ঘরের বাইরে যাওয়ার চেষ্টা করল। কিন্তু দরজার কাছে পৌঁছাতেই একটা বিশাল কালো ছায়া তার পথ আটকে দাঁড়াল।

নীল ওপরের দিকে তাকাতেই তার রক্ত হিম হয়ে গেল। দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছে এক বিশাল পুরুষ অবয়ব (পোস্টারের ওপরের ডানদিকের পুরুষটি)। তার মুখের চামড়া ফেটে চৌচির, চোখ দুটো জ্বলন্ত কয়লার মতো লাল, আর তার হাত দিয়ে চুইয়ে চুইয়ে পড়ছে কালো রক্ত। সে বিকট শব্দে অট্টহাসি দিয়ে উঠল।

পঞ্চম দৃশ্য: টিকে থাকার লড়াই

নীল এখন দুই অশুভ শক্তির মাঝখানে আটকা। একদিকে দানবরূপী পুরুষটি, অন্যদিকে ভর করা মেহজাবিন যার আঙুল থেকে ধীরে ধীরে লম্বা কালো নখ গজিয়ে উঠছে।

হঠাৎ নীলের মাথায় রহিম চাচার কথা মনে পড়ে গেল— "আয়নার সামনে দাঁড়াবেন না।" সে বুঝতে পারল, এই আয়নাটিই হচ্ছে অভিশপ্ত আত্মাদের দুনিয়ায় আসার দরজা। আয়নাটা ভাঙতে পারলেই হয়তো মেহজাবিনকে বাঁচানো সম্ভব!

পুরুষ আত্মাটি নীলের দিকে তার ধারালো নখ নিয়ে তেড়ে আসতেই নীল তার গলার ক্যামেরাটা তুলে সোজা ফ্ল্যাশ জ্বালিয়ে দিল— ক্লিক! তীব্র আলোয় আত্মাটি কয়েক সেকেন্ডের জন্য অন্ধ হয়ে পিছিয়ে গেল এবং আর্তনাদ করে উঠল। এই সুযোগে নীল মেহজাবিনকে পাশ কাটিয়ে ড্রেসিং টেবিলের কাছে পৌঁছাল। তার হাতে সময় নেই। সে টেবিলের ওপর থাকা ভারী পিতলের ফুলদানিটা দুই হাতে তুলে নিল।

মেহজাবিন (অশুভ আত্মা) চিৎকার করে উঠল, "নাআআআআ!" এবং নীলের দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ল।

কিন্তু তার আগেই নীল তার সর্বশক্তি দিয়ে ফুলদানিটা ছুঁড়ে মারল সেই প্রাচীন আয়নার বুকে।

ঝনাৎ! বিকট শব্দে আয়নাটা হাজার টুকরো হয়ে ভেঙে পড়ল। সাথে সাথে পুরো বাড়ি কেঁপে উঠল। সেই দুই অশুভ আত্মা যন্ত্রণায় এমনভাবে চিৎকার করে উঠল যে নীলের কানের পর্দা ফেটে যাওয়ার উপক্রম হলো। একটা কালো ধোঁয়া আয়নার ভাঙা টুকরোগুলোর ভেতর দিয়ে শুষে ভেতরে চলে গেল।

মেহজাবিন জ্ঞান হারিয়ে ফ্লোরে লুটিয়ে পড়ল।





ছবির উপরে ক্লিক করুন






ষষ্ঠ দৃশ্য (উপসংহার): শেষ পরিণতি

পরদিন সকালে পাখির ডাকে নীলের ঘুম ভাঙল। সে দেখল মেহজাবিন তার বুকে মাথা রেখে কাদছে। মেহজাবিন স্বাভাবিক হয়ে ফিরেছে। পুরো বাড়িটা এখন একদম শান্ত। কিন্তু রহিম চাচাকে আর কোথাও খুঁজে পাওয়া গেল না। যেন সে হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে।

নীল আর এক মুহূর্তও দেরি না করে মেহজাবিনকে নিয়ে গাড়িতে উঠল। তারা দ্রুত সেই অভিশপ্ত এস্টেট থেকে বেরিয়ে হাইওয়ের দিকে ছুটতে লাগল।

মেহজাবিন ক্লান্ত হয়ে সিটে ঘুমিয়ে পড়েছে। নীল একটা স্বস্তির নিশ্বাস ফেলল। যাক, সবকিছু শেষ হলো।

গাড়ি চালাতে চালাতে নীল একবার রিয়ারভিউ মিররে (পেছনের আয়নায়) তাকাল। কিন্তু পরক্ষণেই তার শিরদাঁড়া বেয়ে ঠান্ডা স্রোত নেমে গেল। আয়নায় তার নিজের চেহারার বদলে, সেই ফাটা চামড়া আর লাল চোখের পুরুষটার মুখ হাসছে!

নীল চোখ কচলে আবার তাকাল। না, আয়নায় সে নিজেই। তার নিজেরই ক্লান্ত মুখ।

নীল ভাবল এটা তার মনের ভুল। কিন্তু সে খেয়াল করল না, স্টিয়ারিং হুইল ধরে থাকা তার নিজের হাতের নখগুলো ধীরে ধীরে কালো হতে শুরু করেছে, এবং একটু একটু করে বড় হচ্ছে...






No comments:

Post a Comment